অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী অমরাবতী-কে কেন্দ্র করে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল ভারত নয়, সারা বিশ্বের কাছেই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
এই বিশাল প্রকল্প এবং এর লক্ষ্য সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
মূল পরিকল্পনা ও লক্ষ্য
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য হলো অমরাবতীকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে শহরের সমস্ত শক্তির চাহিদা ১০০% নবায়নযোগ্য বা রিনিউয়েবল এনার্জি (যেমন সৌর, বায়ু বা জলবিদ্যুৎ) থেকে মেটানো যায়। একে বলা হচ্ছে 'নেট জিরো' (Net Zero) কার্বন সিটি।
কীভাবে এটি কাজ করবে?
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হবে:
সৌর ও বায়ু শক্তি: শহরের বাড়ি, অফিস এবং সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল বাধ্যতামূলক করা হতে পারে এবং শহরের শক্তির মূল উৎস হবে সোলার ও উইন্ড ফার্ম।
ইলেকট্রিক যানবাহন (EV): শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেও ইভি-কে উৎসাহিত করা হবে।
গ্রিন বিল্ডিং: ভবনগুলো এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয় এবং বাতাসের চলাচল ভালো থাকে, ফলে এসি বা বিদ্যুতের খরচ কমে।
ডিস্ট্রিক্ট কুলিং সিস্টেম: প্রত্যেক বাড়িতে আলাদা এসি না লাগিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ঠান্ডা করার ব্যবস্থা (District Cooling System) ব্যবহার করা হতে পারে, যা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
১. পরিবেশ রক্ষা: জীবাশ্ম জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল, কয়লা) ব্যবহার না করার ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ২. অর্থনৈতিক সাশ্রয়: দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা অনেক সস্তা। ৩. বিশ্বের সামনে উদাহরণ: এটি সফল হলে অমরাবতী বিশ্বের প্রথম বড় আকারের গ্রিনফিল্ড (সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি) রাজধানী হবে যা পুরোপুরি সবুজ শক্তিতে চলবে।
