ভারতের রাজস্থানি স্থাপত্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর নিদর্শন হলো যন্তর মন্তর। এই প্রাচীন সৌধটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিচে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বর্তমানে ভারতে পাঁচটি যন্তর মন্তর থাকলেও জয়পুর এবং দিল্লির যন্তর মন্তরই সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
১. জয়পুরের যন্তর মন্তর (UNESCO হেরিটেজ সাইট)
জয়পুরের যন্তর মন্তরটি বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে।
সংরক্ষণ: এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। ভারত সরকার এবং রাজস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ নিয়মিত এর সংস্কার কাজ করে থাকে। পাথরের যন্ত্রগুলোর ওপরের মার্বেল এবং সূক্ষ্ম দাগগুলো এখন অনেকটাই স্পষ্ট এবং কার্যকর।
পর্যটন: এখানে বর্তমানে ডিজিটাল অডিও গাইড, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং বিশেষ তথ্য কেন্দ্র রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও এটি জয়পুরের পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে।
কার্যকারিতা: আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখানের বিশাল সূর্যঘড়ি বা সম্রাট যন্ত্র এখনো দুই সেকেন্ডের নিখুঁত ব্যবধানে সময় নির্ধারণ করতে পারে।
২. দিল্লির যন্তর মন্তর
দিল্লির কনট প্লেসে অবস্থিত এই মানমন্দিরটির গুরুত্ব বর্তমানে পর্যটনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণেও অনেক।
ভৌত অবস্থা: দিল্লির যন্তর মন্তরের যন্ত্রগুলো জয়পুরের মতো অতটা নিখুঁতভাবে কাজ করে না। এর বড় কারণ হলো চারপাশের বিশাল সব বহুতল ভবন, যার ছায়ায় যন্ত্রগুলোর ওপর ঠিকমতো সূর্যের আলো পড়ে না এবং বাতাসের দূষণে এর পাথর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবাদ স্থল: বর্তমানে যন্তর মন্তর ভারতের একটি প্রধান গণবিক্ষোভ বা প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী, এখানে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সংগঠন (যেমন: অ্যাপ-ভিত্তিক চালকদের বিক্ষোভ) নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছে।
পর্যটন ও প্রবেশ: এটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত এবং ভারত সরকার এটিকে একটি ঐতিহাসিক উদ্যান হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ:
১. শহরায়ন: চারপাশের উঁচু দালানের কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
২. আবহাওয়া ও দূষণ: প্রাচীন পাথরের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ছে, যা পরিষ্কার করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
৩. জনসচেতনতা: সাধারণ দর্শনার্থীরা যাতে সূক্ষ্ম যন্ত্রগুলোর ওপর না চড়েন, সে বিষয়ে এখন আগের চেয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষ: সামগ্রিকভাবে যন্তর মন্তর বর্তমানে কেবল একটি প্রাচীন পাথরের স্তূপ নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।
