ভারতে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত **'সিদ্দি' (Siddi)** বা 'শিদি' জনগোষ্ঠীর সবথেকে বড় অংশটি কর্ণাটক রাজ্যেই বসবাস করে।
ভারতের এই অনন্য ও ঐতিহাসিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
সিদ্দি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পটভূমি
আফ্রিকান শিকড়: সিদ্দিরা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার 'বান্টু' (Bantu) উপজাতির বংশোদ্ভূত।
ভারতে আগমন: আরব বণিক, পর্তুগিজ এবং অন্যান্য ইউরোপীয়রা ১৫শ থেকে ১৯শ শতকের মধ্যে এদেরকে দাস, নাবিক, শ্রমিক বা ভাড়াটে সৈনিক (mercenaries) হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে এরা ভারতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। জনসংখ্যা ও বিস্তার
২০১১ সালের ভারতের জনগণনা (Census) অনুযায়ী এই জনগোষ্ঠীর একটি স্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়:
মোট জনসংখ্যা: ভারতে এদের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৯,৫১৪ জন।
কর্ণাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা: এর মধ্যে শুধুমাত্র কর্ণাটকেই প্রায় ১০,৪৭৭ জন সিদ্দির বাস, যা ভারতে এদের সর্বোচ্চ জনসংখ্যা। এরা মূলত উত্তর কন্নড় জেলার ইয়েলাপুর, হালিয়াল, আঙ্কোলা, জোইদা, মুন্ডগোড এবং সিরসি অঞ্চলে বসবাস করে।
অন্যান্য রাজ্য: কর্ণাটকের ঠিক পরেই রয়েছে গুজরাট (প্রায় ৮,৬৬১ জন)। এছাড়া দমন ও দিউ, গোয়া এবং মহারাষ্ট্রেও এদের সামান্য উপস্থিতি দেখা যায়।
সমাজ ও সংস্কৃতি ভাষা: সিদ্দিরা বর্তমান ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে নিজেদের সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছে। কর্ণাটকের সিদ্দিরা দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য মূলত কোঙ্কনি এবং কন্নড় ভাষা ব্যবহার করে থাকে।
ধর্মীয় বৈচিত্র্য: কর্ণাটকের সিদ্দিদের মধ্যে হিন্দু, মুসলিম এবং খ্রিস্টান—এই তিন ধর্মেরই মানুষ রয়েছেন এবং তারা নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখেই বসবাস করেন।
আফ্রিকান ঐতিহ্য: শত শত বছর ধরে ভারতে বসবাস করলেও তারা তাদের আদি সংস্কৃতির কিছু ঝলক এখনও ধরে রেখেছে। কর্ণাটকের সিদ্দিদের মধ্যে 'হিরিয়ারু' (Hiriyaru) বা পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার একটি প্রাচীন প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া তাদের নিজস্ব নাচ ও সঙ্গীতেও আফ্রিকান ছন্দের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
শত শত বছরের পুরনো এই ইতিহাস ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকেই নির্দেশ করে, যেখানে ভিন্ন একটি মহাদেশের মানুষেরা ভারতীয় সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
.jpg)