'সোনাই রূপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য' ভারতের অসম রাজ্যে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুন্দর এবং জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
অবস্থান ও আয়তন:
এটি অসমের শোণিতপুর জেলায় পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। এর মূল বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ১৭৫ বর্গ কিলোমিটার। তেজপুর শহর থেকে এটি প্রায় ৫২ কিলোমিটার এবং গুয়াহাটি থেকে ১৯৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইতিহাস:
প্রাথমিকভাবে ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ সরকার একে 'গেম স্যাংচুয়ারি' হিসেবে ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে, ১৯৯৮ সালে অসমের বন ও পরিবেশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে একে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (Wildlife Sanctuary) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য ও নদী:
এই অভয়ারণ্যের মাঝখান দিয়ে গভরু, গেলগেলি, সোনাই এবং রূপাই—এই চারটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীগুলো অভয়ারণ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাস্তুতন্ত্রকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া, এটি বৃহত্তর নামেরি-পাক্কে (Nameri-Pakke) সংরক্ষণ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
**জীববৈচিত্র্য:**
প্রাণী: এই অভয়ারণ্যে নানা ধরনের বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এশীয় হাতি, ভারতীয় বাইসন বা গাউর, একশৃঙ্গ গণ্ডার, বাঘ, চিতাবাঘ, বুনো মহিষ, প্যারা হরিণ এবং বিলুপ্তপ্রায় পিগমি হগ।
পাখি: এটি অসমের রাজ্য পাখি 'দেওহাঁস' (White-winged wood duck)-এর অন্যতম প্রধান একটি বাসস্থান। এছাড়া ধনেশ (Hornbill), পেলিকান এবং শীতকালে সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া থেকে আসা প্রচুর পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। পাখিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
সরীসৃপ: অজগর (Python) এবং রাসেলস ভাইপার-এর মতো বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বাস রয়েছে এই জঙ্গলে।
ভ্রমণের সেরা সময়:
সোনাই রূপাই অভয়ারণ্যে ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস। এই সময়ে আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে এবং বন্যপ্রাণী ও পরিযায়ী পাখি দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজের সমারোহ এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য এটি অসমের অন্যতম সেরা একটি পর্যটন গন্তব্য।
.jpg)