এটি ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। গত ৪৪ বছরে কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব ৯৯% কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এই সাফল্যের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক এবং কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
সাফল্যের মূল কারণসমূহ
জাতীয় কুষ্ঠ নির্মূল কর্মসূচি (NLEP): ভারত সরকার ১৯৫৫ সালে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে 'জাতীয় কুষ্ঠ নির্মূল কর্মসূচি' চালু করে, যা এই সাফল্যের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা (MDT): মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) বা পলিকেমোথেরাপির সহজলভ্যতা এবং বিনামূল্যে বিতরণ রোগীদের সুস্থ করে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আর্লি ডিটেকশন বা প্রাথমিক শনাক্তকরণ: আশা কর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগ শনাক্তকরণ অভিযানের (যেমন: 'স্পর্শ' অভিযান) ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক সচেতনতা: কুষ্ঠ রোগ নিয়ে যে সামাজিক কুসংস্কার বা 'ট্যাবু' ছিল, তা দূর করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার ফলে মানুষ এখন চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসছে।
বর্তমান লক্ষ্য: 'কুষ্ঠ মুক্ত ভারত'
যদিও প্রাদুর্ভাব ৯৯% কমেছে, তবুও সরকার এখন ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতকে সম্পূর্ণ কুষ্ঠমুক্ত (Zero Leprosy) করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর জন্য নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা বা 'Strategic Roadmap' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জোর দেওয়া হচ্ছে: ১. শূন্য সংক্রমণ (Zero Transmission)। ২. শূন্য অক্ষমতা (Zero Disability)। ৩. শূন্য বৈষম্য (Zero Discrimination)।
