ভারতের সামুদ্রিক অবকাঠামো এবং অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেরালার ভিঝিনজাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর (Vizhinjam International Seaport)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন।এই বন্দরটি ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিচে এই প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য
প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট হাব: এটি ভারতের প্রথম গভীর সমুদ্রের কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর (Deep-water Transshipment Port)। এতদিন ভারত এই ধরনের সেবার জন্য কলম্বো বা দুবাইয়ের বন্দরের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
গভীরতা: এই বন্দরের প্রাকৃতিক ড্রাফ্ট বা গভীরতা প্রায় ১৮-২০ মিটার, যা বিশ্বের বিশালতম কন্টেইনার জাহাজ বা 'মাদারশিপ' (Mothership) নোঙর করার জন্য উপযুক্ত।
অবস্থান: আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের খুব কাছে (মাত্র ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে) অবস্থিত হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক।
২. কেন এই বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ?
বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়: এতদিন ভারতের বড় কন্টেইনারগুলো প্রথমে কলম্বো বা সিঙ্গাপুরে যেত এবং সেখান থেকে ছোট জাহাজে করে ভারতে আসত। এখন সরাসরি বড় জাহাজগুলো ভিঝিনজামে আসতে পারবে, ফলে ভারতের লজিস্টিক খরচ কমবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
প্রতিযোগিতা: এটি সরাসরি কলম্বো, সিঙ্গাপুর এবং দুবাই বন্দরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: এই বন্দরটি চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যে গতি আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
৩. নির্মাণ ও পরিচালনা
এই প্রকল্পটি আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড (APSEZ) এবং কেরালা সরকারের যৌথ উদ্যোগে (PPP মডেল) নির্মিত হয়েছে।
এটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় (Semi-automated) বন্দর।
সারসংক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই উদ্বোধন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গীকরণ ভারতের "সাগরমালা" প্রকল্প এবং মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় সাফল্য। এটি ভারতকে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
