২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল বিবিসি জানালো একটা ফোটোগ্রাফের কথা। তার আগে জুড়ে দিল যে বস্তুর ছবি তোলা হয়েছে তার বর্ণনা । সেটার আকার পৃথিবীর আকারের তিরিশ লক্ষ গুণ। এক সংখ্যাটার পরে কুড়িটা শূন্য দিলে যা হয় তার পাঁচ গুণ কষে নিয়ে কিলোমিটার একক যোগ করা যাক— আমাদের গ্রহ থেকে তার দূরত্ব এতটাই। M87 গ্যালাক্সিতে তার অবস্থান। ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের নেটওয়ার্কে থাকা আটটা টেলিস্কোপের সাহায্যে তোলা গিয়েছে ছবিটা। একই দিনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানালো যে বস্তুটা সাড়ে ছ’শো কোটি সূর্যের ভরের সমান । সব মিলিয়ে সেটা একটা কৃষ্ণগহ্বর। এক অতি সুবিশাল ব্ল্যাক হোল।
ছবি এবং ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারসের সংখ্যায়। এই উপলক্ষে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার
ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউণ্ডেশনের অধিকর্তা ফ্রান্স কর্ডোভা এক চমৎকার কথা বললেন। তিনি মন্তব্য করলেন যে এত দীর্ঘ সময় ধরে আমরা ব্ল্যাক হোল নিয়ে চর্চা করছি যে আমাদের পক্ষে ভুলে যাওয়া সহজ যে আমরা কখনও ব্ল্যাক হোল দেখিনি। ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের দুনিয়াজোড়া নেটওয়ার্কের সাহায্যে ২০১৭ সালের এপ্রিলে বিপুল পরিমাণ তথ্য জমা করার কাজ সম্পূর্ণ করেন বিজ্ঞানীরা। এর পর সেই তথ্যের সাহায্যে, দু' বছরের পরিশ্রমে শেষ হয় ব্ল্যাক হোলের ফোটোগ্রাফ নির্মাণের কাজ। ছবিতে ধরা পড়ল একটা গভীর কালো গর্তের চারপাশে অনিয়মিত আকারের, উজ্জ্বল আংটির মত একটা গঠন।অষ্টাদশ শতকে মহাকাশের বিভিন্ন বস্তুর একটা ক্যাটালগ তৈরি করেন ফরাসী জ্যোতির্বিদ চার্লস মেসিয়ার। ১৭৮১ সালে কন্যারাশিতে তিনি খুঁজে বের করেন একটা গ্যালাক্সিকে যার নাম তিনি দেন Messier 87 বা সংক্ষেপে M87. পাঁচ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে বহু লক্ষ কোটি নক্ষত্র। এরই কেন্দ্রে রয়েছে বেতার তরঙ্গের একটা শক্তিশালী উৎস। পরে বোঝা গেল যে ওটা আসলে একটা ‘দানবীয়’ ব্ল্যাক হোল। এটার চারপাশে সাতশো কোটি মাইল দূরে রয়েছে একটা সীমারেখা যার ভেতর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। কৃষ্ণগহ্বরের ক্ষেত্রে এমন সীমারেখাকে বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন। এই সীমার বাইরে অতি উত্তপ্ত গ্যাস ও কণার স্রোত পাক খেতে থাকে ব্ল্যাক হোলকে কেন্দ্র করে। একটা চাকতির মত গঠিত হয় যার পরিণতি ব্ল্যাক হোলে বিলীন হয়ে যাওয়া। এই চাকতির নাম অ্যাক্রিশন ডিস্ক। চাকতির থেকে অবলোহিত, বেতার, এক্স রশ্মি— নানা রকম তরঙ্গ বেরিয়ে আসতে থাকে। এতই শক্তিশালী এই সব বিকিরণ যে এর মধ্যে কিছু তরঙ্গ কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ পাড়ি দেয়।
