যেহেতু সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট হয়, তাই ১৭ ক্যারেট সোনায় ১৭ অংশ খাঁটি সোনা এবং বাকি ৭ অংশ (২৪ - ১৭) অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে।
খাঁটি সোনা খুব নরম হওয়ায় তা দিয়ে গয়না তৈরি করা কঠিন। তাই সোনার গয়নাকে শক্ত ও টেকসই করতে এবং এর রং পরিবর্তন করতে (যেমন: হোয়াইট গোল্ড বা রোজ গোল্ড তৈরি করতে) তামা, রূপো বা প্যালাডিয়ামের মতো ধাতুগুলো খাদ হিসেবে মেশানো হয়।
মজার তথ্য: শতাংশের হিসেবে একটি ১৭ ক্যারেট সোনায় প্রায় ৭০.৮৩% খাঁটি সোনা থাকে!
সোনার ক্যারেট বা শুদ্ধতা বোঝার জন্য মূলত কয়েকটি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রয়েছে:
১. হলমার্ক (Hallmark) দেখে: গয়নার ভেতরের দিকে খুব ছোট করে কিছু সংখ্যা বা সিল খোদাই করা থাকে। এটি সোনার ক্যারেট বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন:
916 লেখা থাকলে সেটি ২২ ক্যারেট (৯১.৬% খাঁটি সোনা)।
750 লেখা থাকলে সেটি ১৮ ক্যারেট (৭৫.০% খাঁটি সোনা)।
585 লেখা থাকলে সেটি ১৪ ক্যারেট (৫৮.৫% খাঁটি সোনা)।
২. ক্যারেট মিটার (Carat Meter): আজকাল প্রায় সব নামিদামি সোনার দোকানে XRF মেশিন বা ক্যারেট মিটার থাকে। গয়নার কোনো ক্ষতি না করেই এই মেশিনের সাহায্যে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সোনার সঠিক ক্যারেট বা শুদ্ধতা মাপা যায়।
৩. কষ্টিপাথর ও অ্যাসিড টেস্ট (Acid Test): ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণকাররা কষ্টিপাথরে (Touchstone) সোনা ঘষে তাতে নাইট্রিক অ্যাসিড লাগিয়ে পরীক্ষা করেন। সোনার ক্যারেটের ওপর ভিত্তি করে দাগের রং পরিবর্তন হয়, যা দেখে অভিজ্ঞ স্বর্ণকাররা ক্যারেট বলে দিতে পারেন।
৪. চুম্বক পরীক্ষা (Magnet Test): সোনা চুম্বকীয় পদার্থ নয়। যদি আপনার গয়নার কাছে শক্তিশালী চুম্বক ধরলে তা আকৃষ্ট হয়, তবে বুঝতে হবে তাতে লোহা বা অন্য কোনো সস্তা ধাতুর খাদ অনেক বেশি রয়েছে (তবে এটি দিয়ে সঠিক ক্যারেট মাপা যায় না, কেবল ভেজাল ধরা যায়)।
পরামর্শ: সোনার গয়না কেনার সময় সবসময় দোকানদারকে দিয়ে ক্যারেট মিটারে মেপে দেখাতে বলবেন এবং হলমার্ক যুক্ত গয়নাই কেনার চেষ্টা করবেন।
