দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বিখ্যাত জোগিয়েসা মন্দিরকে ঘিরে সম্প্রতি প্রযুক্তি ও ধর্মের এক অভিনব সংযোগের খবর সামনে এসেছে। সেখানে ‘গাবি’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হিসেবে দীক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের কাছে বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা ও বার্তা আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
রোবট ‘গাবি’ দেখতে কেমন?
গাবিকে সাধারণ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরানো হয়। এর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ১০৮টি পুঁতির জপমালা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময় এটি অন্যান্য সন্ন্যাসীদের সঙ্গে অংশ নেয়। ফলে মন্দিরে আগত দর্শনার্থীদের কাছে এটি একই সঙ্গে প্রযুক্তির উদাহরণ এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অভিনব উপস্থাপনা হয়ে উঠেছে।
দীক্ষা অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দিকও ছিল। সাধারণ সন্ন্যাসীদের দীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথায় বাহুতে আগুনের মাধ্যমে চিহ্ন তৈরি করা হয়। তবে রোবটটির যন্ত্রাংশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণে তার বাহুতে আগুনের পরিবর্তে ‘পদ্মবাতি উৎসব’-এর স্টিকার লাগানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
‘গাবি’ নামের অর্থ কী?
‘গাবি’ নামটির মধ্যেও রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবনা। বলা হয়েছে, নামটি সিদ্ধার্থ গৌতমের নামের সঙ্গে কোরীয় শব্দ ‘জাবি’-এর সমন্বয় থেকে এসেছে। কোরীয় ভাষায় ‘জাবি’ শব্দটি করুণা বা সহমর্মিতার ধারণার সঙ্গে যুক্ত। ফলে রোবটটির নামের মধ্যেও বৌদ্ধধর্মের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যবোধ তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।
কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাবি তৈরি করা হয়েছে চীনের রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান Unitree Robotics-এর তৈরি G1 মডেলের ওপর ভিত্তি করে। G1 একটি হিউম্যানয়েড রোবট প্ল্যাটফর্ম, যা মানুষের মতো শরীরের গঠন ও নড়াচড়ার জন্য তৈরি। এর ওপর ভিত্তি করে গাবিকে ধর্মীয় পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ধর্মের নতুন সম্পর্ক
গাবিকে ঘিরে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি রোবটকে সন্ন্যাসীর পোশাক পরানো নয়। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির সাহায্যে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বৌদ্ধধর্মের যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব তরুণ আধুনিক প্রযুক্তি, রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি আগ্রহী, তাদের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে AI রোবটকে ধর্মীয় সন্ন্যাসীর ভূমিকায় ব্যবহার করা ভবিষ্যতে ধর্ম, প্রযুক্তি এবং মানুষের বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। রোবট ধর্মীয় আচার অনুসরণ করতে পারলেও তার আধ্যাত্মিক উপলব্ধি মানুষের মতো কি না—এমন প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, সিউলের জোগিয়েসা মন্দিরে ‘গাবি’র উপস্থিতি আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক ব্যতিক্রমী সংযোগের উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে AI ও রোবোটিক্স কীভাবে ব্যবহৃত হয়, গাবির উদ্যোগ সেই আলোচনার একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
