রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭.৮% ছিল, যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি এবং একটি বিনিয়োগ বুম ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। যদিও প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী ছিল, তবে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বেড়েছে। সরকারী মূল্য সূচক অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়কালে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
সারসংক্ষেপে:
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: প্রায় ৭.৮% (এপ্রিল-জুন ২০২৬)
প্রবৃদ্ধি মূলত বিনিয়োগ ও উৎপাদনের কারণে
মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে
মুদ্রাস্ফীতির কারণগুলো সাধারণত নিম্নলিখিত প্রধান দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়:
১. চাহিদা-পুলিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull inflation)
যখন অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি হয়, তখন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ, ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় পণ্যের দাম বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, বর্ধিত ভোগ্যপণ্যের চাহিদা, সরকারি ব্যয়ের বৃদ্ধি, বা বিনিয়োগের বুম।
২. খরচ-পুশিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation)
যখন উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পায়, যেমন কাঁচামালের দাম, শ্রমিকদের মজুরি, বা জ্বালানি খরচ বেড়ে গেলে, তখন উৎপাদনকারী পণ্য ও সেবার দাম বাড়িয়ে দেন। এতে মুদ্রাস্ফীতি হয়।
৩. মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশা (Inflation expectations)
যখন মানুষ বা ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দাম বাড়বে বলে আশা করে, তখন তারা আগাম দাম বাড়িয়ে নিতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করে।
৪. মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা
সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, অর্থাৎ অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ বা অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বৃদ্ধি ঘটে, তখন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়।
৫. বৈদেশিক কারণ
বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লে, যেমন তেলের দাম বৃদ্ধি, তখন দেশীয় বাজারেও মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।
৬. সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন
যখন উৎপাদন বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটে, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বা লজিস্টিক সমস্যার কারণে পণ্য কমে যায়, তখন দাম বাড়ে।
এই কারণগুলো একসাথে বা আলাদাভাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বুম ও উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু খরচ-পুশিত কারণ ও বৈদেশিক প্রভাবও মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী হতে পারে।
