ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটির গতিবিধি ও তার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার বিস্তারিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা নিচে দেওয়া হলো:
১. আবহাওয়া ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থান ও গতিপথ
বর্তমান অবস্থা: পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি (Depression) আজ ২৫ অক্টোবর বিকেলের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে (Deep Depression) এবং আগামীকাল ২৬ অক্টোবর সকালে ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclonic Storm) পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য ল্যান্ডফল: এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হবে এবং ২৮ অক্টোবর সকাল নাগাদ একটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় (Very Severe Cyclonic Storm) হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল (বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অঞ্চল) অতিক্রম করতে পারে। সেই সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিমি (দমকা হাওয়াসহ ১৪০ কিমি পর্যন্ত) হতে পারে।
২. পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস (২৫ – ৩০ অক্টোবর)
ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হলেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে আগামী ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে:
২৫ – ২৬ অক্টোবর : দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ : আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে, বড় কোনো সতর্কতা নেই।
২৭ অক্টোবর : দক্ষিণবঙ্গ (উপকূলীয়) : মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৩৫–৪৫ কিমি (দমকা হাওয়া ৫৫ কিমি) বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করবে।
২৮ অক্টোবর : দক্ষিণবঙ্গ : দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের এক-দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টি (৭–১১ সেমি) হতে পারে।
২৯ অক্টোবর : দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ : দক্ষিণবঙ্গ: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিংসহ সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া (৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা) এবং দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
৩০ অক্টোবর : দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ : দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনাসহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া (৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা) এবং হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
অন্যান্য রাজ্যে প্রভাব: ওড়িশা (২৭–২৯ অক্টোবর), ঝাড়খণ্ড (২৮–২৯ অক্টোবর) এবং বিহারে (২৯–৩০ অক্টোবর) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে
৩. মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি নির্দেশিকা
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা: যারা গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের আগামীকাল ২৬ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পর্যটন ও সমুদ্রসৈকত: ২৭ অক্টোবর থেকে দিঘা, মন্দারমণি বা বকখালির মতো সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সমুদ্রে নামা ও বিনোদনমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সতর্কতা: ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় খোলা মাঠ, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিচু এলাকায় সাময়িক জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পাকা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
