অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার পালাশা অঞ্চলে একটি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত বিমানবন্দরটির জন্য প্রায় ১,১৮৫ একর জমি নির্ধারণের কথা জানা গেছে এবং RITES-এর মাধ্যমে এর খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে বিমান যোগাযোগ, পর্যটন, শিল্প-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে এটিকে এখনই “বিমানবন্দর নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত” বলা ঠিক হবে না। সরকারি নথিতে প্রকল্পটি প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; নির্মাণ শুরুর আগে জমি অধিগ্রহণ, বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন, পরিবেশগত অনুমোদন, অর্থায়ন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
স্থানীয়দের সম্ভাব্য উপকার :
পালাশায় বিমানবন্দরটি নির্মিত ও চালু হলে শ্রীকাকুলাম জেলার স্থানীয় মানুষ, ব্যবসা এবং আশপাশের অঞ্চলগুলো কয়েকভাবে উপকৃত হতে পারে। তবে এগুলো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন, বিমান পরিষেবার সংখ্যা এবং সড়ক-রেল সংযোগ উন্নয়নের ওপর নির্ভর করবে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে: নির্মাণপর্বে শ্রমিক, প্রকৌশলী, পরিবহনকর্মী ও সরবরাহকারীদের কাজ তৈরি হবে। বিমানবন্দর চালু হলে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং, খুচরা দোকান, খাবারের পরিষেবা, গাড়ি ভাড়া ও প্রশাসনিক কাজে স্থানীয় নিয়োগের সুযোগ থাকবে।
স্থানীয় ব্যবসার প্রসার ঘটবে: হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যাক্সি, অটো, ট্রাভেল এজেন্সি, প্যাকেজিং, গুদাম ও ছোট দোকানের চাহিদা বাড়তে পারে। বিমানবন্দরকে ঘিরে জমি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের মূল্যও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে—যদিও এতে অনিয়ন্ত্রিত জমি-দাম বৃদ্ধি এড়াতে পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার।
কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারবে: শ্রীকাকুলাম ও উপকূলীয় এলাকার চিংড়ি, মাছ, কাজু, আম, সবজি এবং অন্যান্য নষ্টপ্রবণ পণ্য দ্রুত বড় শহর বা বাইরের বাজারে পাঠানো সম্ভব হতে পারে। এর ফলে পরিবহন সময় কমে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পর্যটন উন্নত হবে: উপকূলীয় এলাকা, মন্দির, ঐতিহাসিক স্থান এবং প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলোতে পর্যটক পৌঁছানো সহজ হবে। পর্যটক বাড়লে স্থানীয় গাইড, হোমস্টে, হোটেল, পরিবহন ও হস্তশিল্প ব্যবসায় আয় বাড়তে পারে।
যোগাযোগ ও পরিকাঠামো উন্নত হতে পারে: বিমানবন্দরের জন্য রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, ইন্টারনেট ও গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়োজন হবে। এই উন্নয়নের সুফল বিমানবন্দরের আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলিও পেতে পারে।
শিক্ষা ও চিকিৎসায় সুবিধা বাড়বে: জরুরি চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা বা উন্নত শিক্ষার জন্য বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া, হায়দরাবাদ বা অন্যান্য শহরে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হবে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের সময় ও ভ্রমণ-ব্যয়ও কমতে পারে।
তবে জমি অধিগ্রহণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, স্থানীয়দের দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকৃত সুফল তখনই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে, যখন স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে চাকরি ও ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে এবং উন্নয়নের সঙ্গে শব্দদূষণ, যানজট ও জমি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও সঠিকভাবে সামলানো হবে।
