সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (SEBI)-এর চেয়ারম্যান তুহিনকান্ত পাণ্ডে ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কড়া আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই ঐতিহ্যবাহী শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ রয়েছে।
সেবি (SEBI) প্রধানের দেওয়া শর্তাবলি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে বিশদে আলোচনা করা হলো:
১. আর্থিক শর্তাবলি (Financial Requirements) ন্যূনতম নেট ওয়ার্থ (Net Worth): পুনরায় কাজ শুরু করতে গেলে এক্সচেঞ্জের নিজস্ব মূলধন বা নেট ওয়ার্থ কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হতে হবে। বার্ষিক লেনদেন (Annual Turnover): স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে টিকে থাকতে হলে বছরে গড়ে কমপক্ষে ১,০০০ কোটি টাকার লেনদেন (টার্নওভার) দেখাতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৩-১৪ সালে বন্ধ হওয়ার সময় এর বার্ষিক লেনদেন নেমে এসেছিল মাত্র ৯০ কোটি টাকায়।
২. প্রযুক্তিগত শর্তাবলি (Technological Requirements)
অনলাইন ট্রেডিং সিস্টেম: সম্পূর্ণ আধুনিক ও অনলাইন স্ক্রিন-ভিত্তিক ট্রেডিং ব্যবস্থা (Online Screen-Based Trading System) গড়ে তুলতে হবে।
অনলাইন নজরদারি ও সাইবার নিরাপত্তা: বাজারে যেকোনো কারচুপি রুখতে রিয়েল-টাইম অনলাইন নজরদারি ব্যবস্থা (Online Surveillance Mechanism) এবং SEBI-এর নিয়ম মেনে অত্যন্ত শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
৩. নিয়ন্ত্রক ও অন্যান্য শর্তাবলি (Regulatory Compliance)
ব্রোকারদের বকেয়া মেটানো: পুরোনো সমস্ত ব্রোকার এবং স্টেকহোল্ডারদের বকেয়া টাকা (Outstanding Dues) সম্পূর্ণ মিটিয়ে দিতে হবে। SEBI-এর অনুমতি নিয়ে ইএম বাইপাসের জমি বিক্রির যে টাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে (Escrow Account) রাখা আছে, তা থেকে এই বকেয়া মেটানো বাধ্যতামূলক।
ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন (Clearing Corporation): লেনদেনের নিষ্পত্তির জন্য এক্সচেঞ্জকে নিজস্ব একটি আলাদা ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন তৈরি করতে হবে অথবা বর্তমান কোনো জাতীয় স্তরের ক্লিয়ারিং কর্পোরেশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।
দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক: দেশজুড়ে ট্রেডিং সদস্যদের (Trading Members) একটি পরিকাঠামো ও নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।
SEBI চেয়ারম্যানের মতে, বর্তমান যুগে মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই যেকোনো লগ্নিকারী NSE (National Stock Exchange) বা BSE (Bombay Stock Exchange)-তে ট্রেড করতে পারেন। ফলে ভৌগোলিক দূরত্বের কোনো গুরুত্ব এখন আর নেই। এই ডিজিটাল যুগে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু হলেও, তা কতটা লাভজনক (Commercial Viability) হবে এবং পর্যাপ্ত লিকুইডিটি বা ক্রেতা-বিক্রেতা আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তা সত্ত্বেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেট প্রস্তাব ও সদিচ্ছার কারণে যদি এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ শর্ত পূরণ করে নতুন কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা (Business Plan) জমা দেয়, তবেই SEBI তা খতিয়ে দেখবে।
