কলকাতার নন্দন চত্বরে 'পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইলিউশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস' এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ম্যাজিক মিউজিয়াম তৈরির আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলার সমৃদ্ধ ও প্রাচীন জাদুশিল্পকে (ইন্দ্রজাল) সংরক্ষণ করা, এই শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ঘটানো এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহ্যকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে সম্প্রতি নন্দনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১. পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস পেশাদার প্রশিক্ষণ: অভিজ্ঞ জাদুকরদের মাধ্যমে এখানে জাদুবিদ্যার আধুনিক ও প্রাচীন কৌশলগুলোর ওপর নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পাঠ্যক্রম (Curriculum): শুধুমাত্র হাতের কৌশল বা 'স্লের্ট অফ হ্যান্ড' (Sleight of Hand) নয়, বরং মঞ্চে উপস্থাপনা, দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখার আর্ট এবং জাদুর পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে বিশেষ পাঠ্যক্রম তৈরি করা হচ্ছে।
সহযোগী কর্মসংস্থান: এই ইনস্টিটিউট কেবল পারফর্মার তৈরি করবে না, বরং জাদুর প্রপস তৈরি, সেট ডিজাইন, কস্টিউম ডিজাইন এবং লাইটিংয়ের মতো আনুষঙ্গিক পেশাগুলোর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।
২. ঐতিহাসিক ম্যাজিক মিউজিয়াম (সংগ্রহশালা)
ঐতিহ্য সংরক্ষণ: বাংলার জাদুকরদের গৌরবময় ইতিহাস এবং বিবর্তনের ধারাকে এই মিউজিয়ামে ক্রমানুসারে সাজানো হবে।
দুর্লভ প্রদর্শনী: বিশিষ্ট বাঙালি জাদুকরদের ব্যবহৃত দুর্লভ ও প্রাচীন জাদু-সরঞ্জাম, পুরোনো কস্টিউম বা পোশাক এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এখানে সংরক্ষিত থাকবে, যা সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের জন্য এক বড় সুযোগ।
নেতৃত্ব ও উপদেষ্টা কমিটি এই স্বপ্নদর্শী প্রকল্পটিকে বাস্তব রূপ দিতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা: কিংবদন্তি জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র (P.C. Sorcar Junior) এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, এটি 'বেঙ্গল কা জাদু'-র ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: এই উপদেষ্টা কমিটিতে আরও রয়েছেন পি সি সরকার জুনিয়রের কন্যা মানেকা সরকার, বিশিষ্ট থিয়েটার ব্যক্তিত্ব, মিউজিয়াম উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়ামের প্রতিনিধি এবং পারফর্মিং আর্টস ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদগণ।
সরকারি উদ্যোগ: তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং বিভাগের সচিব সৌমিত্র মোহনের উপস্থিতিতে নন্দনে এই প্রকল্পের প্রথম রূপরেখা বৈঠকটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই স্কুলটি সম্পূর্ণভাবে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
